অফিস বদল হয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে একটা বাসা খুঁজতে বের হয়েছি। গেটে 'টু-লেট' লেখা দেখে থমকে দাঁড়ালাম। দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করতেই সে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত এমনভাবে দেখল যেন আমি কোনো জেল পালানো আসামি।
মালিকের দেখা পেলাম। প্রথম প্রশ্নই হলো, "ব্যাচেলর?" আমি মাথা নিচু করে স্বীকারোক্তি দিলাম, "জি ভাই।"
মালিক মুখটা এমন করলেন যেন তিতা করলার রস খেয়েছেন। তারপর বললেন, "ভাড়া হবে, তবে কিছু নিয়ম আছে। রাত ৯টার মধ্যে বাসায় ঢুকতে হবে। বাসায় কোনো গেস্ট আসা চলবে না, এমনকি আপনার মা-বাবাও না। আর রুমে কোনো গান-বাজনা বা জোরে হাসাহাসি করা যাবে না।"
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। বললাম, "ভাই, অফিস শেষ করতেই তো রাত ৮টা বাজে। জ্যাম ঠেলে ৯টার মধ্যে আসা তো অসম্ভব। আর আমার মা আসলে উনি থাকবেন কই?"
বাড়িওয়ালা ভাই সোফায় হেলান দিয়ে বিজ্ঞের মতো বললেন, "দেখেন ভাই, ব্যাচেলর মানেই হইলো আপদ। ৯টার পর বাইরে থাকা মানেই আপনি খারাপ আড্ডায় যাবেন। আমরা চাই আপনি আর্লি টু বেড, আর্লি টু রাইজ—এই নীতিতে চলেন। আর গেস্ট আসলে বাসার পবিত্রতা নষ্ট হয়। মা-বাবা আসলে নিচে দারোয়ানের রুমে ৫ মিনিট কথা বলে বিদায় করে দেবেন।"
আমি স্তব্ধ হয়ে বললাম, "ভাই, মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে নিজের বাসায় জেলখানায় থাকবো? আর হাসাহাসিও করা যাবে না কেন?"
ভদ্রলোক এবার আমার সামনে এসে গম্ভীর গলায় বললেন, "আরে ভাই, ব্যাচেলররা হাসলে প্রতিবেশী ফ্যামিলিদের ডিস্টার্ব হয়। তারা ভাববে ব্যাচেলররা মনে হয় সুখে আছে, তখন ফ্যামিলিগুলোর মধ্যে অশান্তি শুরু হবে। আমরা সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য আপনাদের হাসি নিষিদ্ধ করছি। আপনাদের তো উচিত আমাদের শুকরিয়া আদায় করা যে আমরা আপনাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই দিচ্ছি।"
আমি বুঝলাম, ব্যাচেলর হওয়াটা এই শহরে কোনো অপরাধের চেয়ে কম নয়। নিজের 'সুখী' হওয়ার অপরাধে লজ্জিত হয়ে বললাম—
"ও আচ্ছা ভাই... সরি!"
ব্যাচেলর বনাম বাড়িওয়ালা