অফিসের একটা মিটিং আছে, হাতে একদম সময় নেই। বড় রাস্তা ছেড়ে সরু ফুটপাত দিয়ে দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করছি। কিন্তু সমস্যা হলো, ফুটপাতের প্রায় ৮০ শতাংশই হকারদের দখলে। কোথাও প্যান্টের স্তূপ, কোথাও মোজার পাহাড়। এক জায়গায় এসে দেখলাম এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে খুব আয়েশ করে একটা শার্ট গায়ে দিয়ে ট্রায়াল দিচ্ছেন, আর তার পেছনে বিশাল জটলা লেগে আছে।
আমি অতিষ্ঠ হয়ে বললাম, "ভাই, একটু পথ দেবেন? মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে এভাবে শার্ট ট্রায়াল দিলে অন্য মানুষ যাবে কোন দিক দিয়ে?"
ভদ্রলোক আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন আমি উনার শোবার ঘরে ঢুকে পড়েছি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হকার মামা আমার ওপর খেপে গেলেন।
হকার: "কি ভাই, দেখছেন না কাস্টমার শার্ট পছন্দ করতেছে? একটু দাঁড়াইতে পারেন না? মানুষের কি শখ-আহ্লাদ নাই?"
আমি অবাক হয়ে বললাম, "ভাই, শখ থাকতেই পারে, কিন্তু এটা তো হাঁটার রাস্তা। উনি শার্টের ট্রায়াল তো দোকানে গিয়ে দিতে পারেন। এখানে মাঝপথে আটকে রাখছেন কেন?"
হকার মামা এবার কোমরে হাত দিয়ে দর্শনের কথা শুরু করলেন, "শোনেন মামা, এইটা হইলো 'ওপেন এয়ার শোরুম'। বড় বড় শোরুমে তো ট্রায়াল রুম থাকে, আমাদের ট্রায়াল রুম হইলো এই আকাশ। আর কাস্টমার যদি শার্ট পরে নাই দেখে যে ফিটিং কেমন হইছে, তাইলে সে কিনবে কেন? আপনি কি চান একটা গরিব মানুষের বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যাক?"
শার্ট পরা ভদ্রলোকও যোগ দিলেন, "ঠিকই তো! আমি তো আর নিজের জন্য দেখছি না, কালকে শ্যালকের বিয়ে, একটু স্মার্ট না লাগলে চলে? আপনি বরং পাশের ওই নর্দমার ওপর দিয়ে যে সরু কাঠটা আছে, ওইটা দিয়ে ঘুরে যান।"
আমি হতভম্ব হয়ে বললাম, "নর্দমার ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাব? আর আপনারা ফুটপাত আটকে শার্ট পরবেন?"
হকার মামা এবার আমার কাঁধে হাত দিয়ে পরম মমতায় বললেন, "মামা, জীবনে একটু রিস্ক না নিলে কি বড় হওয়া যায়? আপনি নর্দমার ওপর দিয়ে ব্যালেন্স করে হাঁটলে আপনার ফোকাস বাড়বে। আমরা তো আসলে আপনার ব্রেন ট্রেইনিং করার সুযোগ দিচ্ছি। একটু পজিটিভলি ভাবেন!"
উনাদের এই 'ফ্রি ব্রেন ট্রেইনিং' আর 'ওপেন এয়ার শোরুম' থিওরি শুনে আমি নিজের ক্ষুদ্র মস্তিস্কের জন্য লজ্জিত হলাম। উনাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে বাধা দেওয়ার অপরাধে নিচু স্বরে বললাম—
"ও আচ্ছা ভাই... সরি!"
ফুটপাত যখন শোরুম